যে সাত ধরনের কন্টেন্ট আপনাকে প্রচুর লিংক এবং এনগেজমেন্ট দেবে | Techtunes


আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন টেকটিউনস কমিউনিটি? আশা করছি সবাই ভাল আছেন। আজকে আবার হাজির হলাম নতুন টিউন নিয়ে।

অনলাইনে যাদের ব্লগ, ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ রয়েছে অথবা যারা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তারা প্রতিনিয়তই নতুন নতুন কন্টেন্ট নিয়ে চিন্তা করেন। আপনাদের মাথায় সবসময় ঘুরপাক খায়, এই মুহূর্তে কি ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করা উচিত, কি ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করলে বেশি এনগেজমেন্ট আসবে ইত্যাদি। আপনিও যদি তাদের দলে থাকেন তাহলে এই টিউনটি আপনার জন্য।

আজকের এই টিউনে আমি সাত ধরনের কন্টেন্ট নিয়ে আলোচনা করব যেগুলো আপনি তৈরি করতে পারেন, একই সাথে সফলতা পেতে দেব ৮ টি সেরা টিপস।

সাতটি সেরা কন্টেন্ট টাইপ

আমরা সবাই চাই আমাদের কন্টেন্ট সবাই দেখুক বা সেটা নির্দিষ্ট অডিয়েন্সদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাক, কিন্তু সেটা কিভাবে? এমন কিছু কন্টেন্ট আছে যেগুলো আপনাকে Higher ROI (Return On investment) এবং এনগেজমেন্ট দেবে। চলুন এমন কন্টেন্ট গুলোর সাথে পরিচিত হই,

১. Authority Content

Authority content হল নির্দিষ্ট টাইপের কন্টেন্ট যেগুলো আপনার ব্র‍্যান্ড বিল্ডিং এর জন্য তৈরি করা হবে অথবা আপনার ব্র‍্যান্ডকে ইন্ডাস্ট্রিতে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।

আপনি যদি ওয়েবসাইট বা আপনার প্ল্যাটফর্মে ট্রাফিক, এনগেজমেন্ট এবং ব্যাক-লিংক নিয়ে আসতে চান তাহলে Authority content তৈরিতে মনোযোগী হোন। আর গুগল এই ধরনের কন্টেন্টই চায়, যদি গুগল আপনার কন্টেন্টকে ইউনিক হিসেবে দেখে তাহলে তারাই এর প্রোমোশন করবে।

আপনি Authority content তৈরি করুন,

  • যদি আপনি আপনার কন্টেন্টকে কোন সাইন্টিফিক স্ট্যাডিস বা সোর্স এর সাথে লিংক করতে চান
  • যদি আপনি কোন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানেন এবং আপনার মনে হয় সেটি আপনি অন্যদের থেকে ভাল ভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন
  • কোন বিষয় অন্য কোথাও কঠিন ভাবে দেয়া আপনি যদি সেটিকে সহজ ভাবে উপস্থাপন করতে পারেন

২. Ebook

বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় কন্টেন্ট টাইপ হচ্ছে Ebook। দিন দিন Ebook বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে চলেছে। Statista, পুরো Ebook মার্কেটকে ১৫ থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলার মার্কেট বলে উল্লেখ্য করেছে।

প্রিন্ট বই তৈরি করার চেয়ে Ebook তৈরি করা বেশ সহজ এবং এটি ডিজিটাল ফর্মে মার্কেটিং ও করা যায়। আপনার যদি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে বিশেষ জ্ঞান থাকে তাহলে Ebook তৈরির দিকে মনোযোগী হোন এবং উপযুক্ত মার্কেটিং এর মাধ্যমে তা অডিয়েন্সদের মাঝে ছড়িয়ে দিন। আশা করা যায় এতে উপযুক্ত ভ্যালু এড করতে পারলে আপনি যথেষ্ট লাভবান হতে পারবেন।

৩. অডিয়েন্সদের মতামতের গুরুত্ব

জানার চেষ্টা করুন অডিয়েন্সরা আপনার ব্র‍্যান্ড সম্পর্কে কি বলে কারণ তাদেরও মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। কখন কখন অডিয়েন্সদের কোন Post আপনার ব্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া যেমন, Medium এবং Huffington তাদের প্ল্যাটফর্মে এমন ব্যবস্থা রেখেছে।

আপনি চলমান কোন ঘটনা নিয়ে অডিয়েন্সদের মতামত জানতে চাইতে পারেন অথবা আপনার ব্র‍্যান্ডের জন্য প্রয়োজনীয় উপদেশ গ্রহণ করতে পারেন।

৪. How-To কন্টেন্ট

How To কন্টেন্ট কাকে বলে এটা হয়তো নতুন করে বলতে হবে না। বিভিন্ন টিউটোরিয়াল মূলক Post কেই How To কন্টেন্ট হিসেবে গণ্য করা হয়। আপনার ব্র‍্যান্ডকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে How To কন্টেন্ট চমৎকার ভূমিকা পালন করতে পারে। এই ধরনের কন্টেন্ট অডিয়েন্সদের এনগেজমেন্টেও বাড়িয়ে দেয়।

নিজেদের সমস্যা সমাধান করা মাধ্যমে তাদের আপনার প্রতি ভিন্ন এক আস্থা তৈরি হয়। How To কন্টেন্ট অনেক রকমের হতে পারে যেমন, ভিডিও, ব্লগ Post, ইনফোগ্রাফিক, ইত্যাদি।

৫. অরিজিনাল রিসার্চ

আপনি যদি কোন একটি বিষয়ে গবেষণা করে ইউনিক কিছু তৈরি করতে পারেন তাহলে, এটি আপনার ব্র‍্যান্ডকে অডিয়েন্সদের কাছে অন্য ভাবে পরিচিত করে তুলবে। অরিজিনাল রিসার্চ আর Authority content এই দুটি বিষয় একে অপরের সম্পর্কযুক্ত।

অরিজিনাল কোন রিসার্চ কন্টেন্ট একই সাথে ট্রাফিক, এনগেজমেন্ট, লিড, এবং ব্যাক-লিংক বাড়িয়ে দিতে পারে। গুগল এই সমস্ত কন্টেন্টকে গুরুত্ব দেয়। যখন গুগল দেখবে আপনার কন্টেন্ট ইউনিক তখন এটি সার্চ রেজাল্টে আগে সবার আগে শো করবে।

রিসার্চ কন্টেন্ট কয়েক রকমের হতে পারে যেমন,

  • কোন বিষয়ে তদন্তমূলক প্রতিবেদন
  • কেইস স্ট্যাডি
  • এক্সপেরিমেন্ট
    ইন্টারভিউ

৬. ট্র‍্যান্ডিং কন্টেন্ট

কেউ স্বীকার করুক বা না করুক অধিকাংশ কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদেরই ভাইরাল হবার স্বপ্ন থাকে। ভাইরাল বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি হয়। গবেষণায় দেখা যায় নির্দিষ্ট সময়ে ইন্টারনেটে মাত্র ১% ভিডিও ভাইরাল হয়। কন্টেন্টকে ভাইরাল করার পূর্ব শর্ত হচ্ছে ট্র‍্যান্ডিং টপিককে গুরুত্ব দিতে হবে।

আপনার কন্টেন্ট ভাইরাল করতে,

  • আপনার ইন্ডাস্ট্রি অনুযায়ী ট্রেন্ডিং টপিক বাছাই করুন
  • যথা সময়ে কন্টেন্ট পাবলিশ করুন, যত তারাতারি পাবলিশ করা যায়
  • অডিয়েন্সদের বিনোদন দিতে হাস্য রসাত্মক বিষয় যুক্ত করুন

৭. ভিডিও

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় কন্টেন্ট হচ্ছে ভিডিও। এখন মানুষ ভিডিও দেখতে বেশি পছন্দ করে। অডিয়েন্সদের এনগেজমেন্ট পেতে আপনি ভিডিও কন্টেন্টের দিকে মনোযোগী হতে পারেন।

ভিডিও কন্টেন্টের কিছু সুবিধা,

  • একই সাথে ভিজ্যুয়াল এবং অডিও বিষয়বস্তু তুলে ধরা
  • Transcripts এর মাধ্যমে SEO নিশ্চিত করা
  • একই কন্টেন্ট বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারের সুযোগ

তো আমরা এতক্ষণ জানলাম বর্তমান সময়ে কি ধরনের কন্টেন্ট গুলো অডিয়েন্সদের এনগেজমেন্ট বাড়াতে পারে। এবার আমরা দেখব কিভাবে সেই কন্টেন্ট গুলো তৈরি করা উচিত এবং কি কি বিষয় খেয়াল রাখা উচিত

Hight ROI কন্টেন্ট তৈরিতে ৮ টি টিপস

আপনি কন্টেন্ট তৈরি করলেই সেটা অডিয়েন্স গ্রহণ করবে এমনটি কিন্তু নয়, আপনাকে যেকোনো কন্টেন্ট তৈরি করার আগে ভেবে নিতে হবে সেখানে আপনি কতটা ভ্যালু এড করতে পারবেন। আপনি যখন সঠিক মাত্রায় ভ্যালু এড কর‍তে পারবেন তখনই সেটা বিপুল অডিয়েন্সদের মধ্যে গ্রহনযোগ্যতা লাভ করবে।

নির্দিষ্ট বিষয়ে ফোকাস করা

অনেক গুলো বিষয় একসাথে না নিয়ে এসে নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে ফোকাস করুন। আপনি সেই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিন যেটা আপনি ভাল জানেন এবং যেটাতে চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। ধরুন আপনি SEO নিয়ে ধারণা রাখেন সেক্ষেত্রে আপনি এই বিষয়ের উপরই সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করুন।

প্রফেশনাল লোক নিয়োগ

আপনার ব্র‍্যান্ড ইমেজ তৈরি করতে সব সময় একাই সব করবেন বা আপনাকেই এক্সপার্ট হতে হবে এমনটি নয়। প্রয়োজনে প্রফেশনাল কন্টেন্ট রাইটার নিয়োগ দিন। যেহেতু বর্তমান সময়ে প্রতিযোগিতা খুব বেশি সেহেতু ঝুঁকি না নিয়ে এক্সপার্টদের সাহায্য নেয়াই ভাল।

ধৈর্য রাখুন

কখনো অধৈর্য হওয়া যাবে না, আপনি সব সময় দ্রুত সফলতা পেয়ে যাবেন এমনটি কিন্তু নয়। আপনাকে সময় দিতে হবে, জানতে হবে, ভুল করতে হবে এবং ভুলের কারণ গুলো খুঁজে বের করতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদি সফলতার জন্য আপনাকে লেগে থাকতে হবে।

পদক্ষেপ গুলো সংশোধন

আপনার কোন কোন পদক্ষেপ ভুল হতেই পারে, এতে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। আবার ফিরে যান নতুন করে ভাবুন এবং সমস্যা খুঁজে বের করুন, সংশোধন করে ধারণা গুলো পুনরায় প্রয়োগ করুন।

নিজের জন্য উপযুক্ত কন্টেন্ট নির্বাচন

আমরা জেনেছি বর্তমান সময়ে Blogs, ebook, এবং ভিডিও কন্টেন্ট বেশি জনপ্রিয়, তাই বলে আপনাকে সব গুলো তৈরি করতে হবে এমনটি কিন্তু নয়। আপনি এমন ফরমেট বাছাই করুন যা আপনি ভাল পারেন।

আপনি কন্টেন্টে যত বৈচিত্র্যতা আনতে পারবেন সেটি তত বেশি অডিয়েন্সদের দৃষ্টিগোচর হবে।

রিসার্চ করা

অডিয়েন্সদের জন্য উপযুক্ত কন্টেন্ট নির্বাচনে রিসার্চের বিকল্প নেই। আপনাকে জানতে হবে অডিয়েন্সরা কি ধরনের কন্টেন্ট চায়, তারা এই মুহূর্তে কোন কোন বিষয়ে আগ্রহী। আর এসব কিছু জানতে আপনি কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে পারেন, কম্পিটিশন এনালাইসিস করতে পারেন অন্যদের কন্টেন্টে কি গ্যাপ আছে সেটা বের করতে পারেন।

কন্টেন্ট স্ট্রেটেজি তৈরি করা

কন্টেন্ট ক্রিয়েশনে ঢুকার আগে সব গুলো বিষয় সাজিয়ে নিন। কোন কাজটির পর কোন কাজটি করবেন নির্দিষ্ট করুন এবং একটি সঠিক স্ট্রেটেজি তৈরি করুন। প্রথমবার ব্যর্থ হলে পুনরায় স্ট্রেটেজি পরিবর্তন করুন।

সঠিক এবং মডার্ন SEO

বলতে গেলে SEO বিষয়টি শুরু হয়েছে ১৯৯৮ সাল থেকে যখন প্রথম গুগল এসেছে তাই বলে আপনি তখনকার মেথড গুলো এখন ফলো করবেন? একদমই না। আপনার মডার্ন SEO সম্পর্কে জানতে হবে, কোন কোন বিষয় গুলো পরিবর্তন হয়েছে, এলগোরিদম গত কি কি চেঞ্জ এসেছে সেগুলো জানতে হবে। বর্তমানে যে SEO প্র্যাকটিস গুলো কার্যকর সেগুলো আপনাকে ফলো করতে হবে।

শেষ কথাঃ

হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট এবং সলিড কন্টেন্ট মার্কেটিং একটি দীর্ঘমেয়াদী বিষয় আপনি চাইলেই রাতারাতি কিছু করে ফেলতে পারবেন না। আপনাকে সফলতার জন্য লেগে থাকতে হবে এবং কাজ করে যেতে হবে।

আশা করছি এই মুহূর্তে আপনার কোন কন্টেন্ট গুলো তৈরি করা উচিত সে সম্পর্কে ভাল একটি ধারণা পেয়েছেন।

আরো পড়ুনঃ
Freelancing Course in Bangla

Leave a Comment

RSS
Follow by Email